ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সব মনে রাখা হবে, সবকিছু মনে রাখা হবে

শান্ত শিফাত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 12, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: শহীদ ওসমান হাদি ছবির ক্যাপশন: শহীদ ওসমান হাদি
ad728
কাকন রেজা: ছোট্ট একটা সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। তারই মুখপাত্র শহিদ শরীফ ওসমান বিন হাদি। কোনো বড় রাজনৈতিক দলের বড় তো দূরের কথা পাতি নেতাও নন। ছায়ানট, উদীচী’র মতন বিশাল(?) বটবৃক্ষের কোনো পাতাও নন। বিদেশীদের টাকায় মাথা বেচা কোনো এনজিও’র ভাড়াটে স্কলারও নন। সাধারণ একটা মানুষ। প্রগতিশীলদের ভাষায় গ্রামীণ ধরণের মানুষ, যে নামাজ পড়ে, তৎসম শব্দ ব্যবহার করে কম। প্রমিত বাংলায় কথা বলে না। ‘স্ল্যাং’ ব্যবহার করে। এক কথায় ‘খ্যাত’ আর কী। এই মানুষটাই যাদের কথা বললাম তাদের শেকড় উপড়ে দিয়ে গেছেন। তারা বটবৃক্ষ থেকে এখন পরগাছায় পরিণত হয়েছেন। তারা মূলত পরগাছাই ছিলেন। আমার তাদের বৃক্ষ ভেবে ভুল করেছিলাম। হাদি সেই ভুলটা ভেঙে দিয়ে গেছেন। 

আমাদের জবান কী হবে হাদি জানিয়ে দিয়ে গেছেন। আমাদের সংস্কৃতি কোনটা হাদি আমাদের চিনিয়ে দিয়ে গেছেন। বাঙাল মুসলমানদের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস কাটিয়ে দিয়ে গেছেন তিনি। মুসলমানরা এখন তাদের তাকবির দিতে পারেন নির্দ্ধিধায়। তারা গলা ফাটিয়ে বলতে পারেন ‘আল্লাহু আকবার’। আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করতেও এক সময় তাদের ভাবতে হতো। এই তাকবিরের কারণে তাদের ট্যাগিং করা হতো, রাজাকার, সাম্প্রদায়িক বলে। কারা ট্যাগ করতেন, যারা ভারতীয় সংস্কৃতিকে আমাদের সংস্কৃতি বলে চালিয়ে দেয়ার এজেন্সি নিয়েছিলেন। তাদের ব্যর্থ করে দিয়েছেন হাদি। বাংলাদেশ আর পাঁচ আগস্টের পূর্বেকার সংস্কৃতিতে ফিরে যাবে না। 

হাদি রাজনীতিটাকেও কঠিন করে দিয়ে গেছেন রাজনীতিবিদদের জন্য। হাদি’র আদর্শ ছিল শহিদ জিয়া। জিয়াও চেয়েছিলেন রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতিটাকে কঠিন করে দিয়ে যেতে। হাদি তাই করেছেন। এখন ভোট চাইতে গেলে সেই আগেকার স্টাইলে মৌসুমি প্রচারকাজ চলবে না। পাঁচ বছর পরপর ভোটের মৌসুমে গিলে করা পাঞ্জাবি পড়ে গরীবের বন্ধু সাজার অভিনয় আর চলবে না। হাদি সেই অভিনয়ের কৌশল প্রকাশ করে দিয়ে গেছেন। হাসনাত আব্দুল্লাহরাও সেই হাদির দেখানো পথেই চলছেন। হাদি’র হাদিয়া নেয়ার কৌশল হলো আধুনিক বিশ্বের ক্রাউড ফান্ডিং। নতুন প্রজন্ম সেই ক্রাউড ফান্ডিংয়ের পথেই হাঁটছেন। যারফলে টাকা দিয়ে ভোট কেনার জায়গাটা অনেকটাই সংকুচিত হয়ে উঠেছে। মানুষ বরং নিজের পকেটের টাকা দিয়ে নিজের জন্য জনপ্রতিনিধি কিনতে চাইছেন। পছন্দের মানুষকে নির্বাচনে জিতে আসতে টাকা দিচ্ছেন। আর যারা টাকা দিচ্ছেন তারা টাকার সাথে নিজেদের ভোটটাও কনফার্ম করে দিচ্ছেন। যারফলে ভোট কেনার কনসেপ্টটা ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে। 

আগামী কোনো একদিনে হয়তো দেখবো, সংসদে তিনশ আসনের সদস্যই নির্বাচিত হয়েছেন জনগনের দেয়া টাকায়। ফলে ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের সাথে গাদ্দারির কাজটা ভয়ংকর রকম কঠিন হয়ে যাবে। শহিদ শরীফ ওসমান বিন হাদি এই কাজটা শুরু করে গিয়েছেন। যে রাজনীতিবিদরা তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন, তারা এমন কাজের চিন্তাও করেননি কখনো। তারা চিন্তায় ছিলেন অসৎ। তাদের অসততার প্রতিচ্ছবি তাদের বক্তব্যে, চিন্তায়, কাজে। এদের কথার জবাব দিয়ে হাদিকে ছোট করার কোনো মানে হয় না। এসব রাজনীতিবিদদের রাজনীতি কঠিন করে তোলার জন্যই হাদি’রা কাজ করেছেন, এখনো করছেন। হাদিকে হত্যা করে উল্টো পুরানো রাজনীতির সাথে জড়িতরা তাদের ক্ষতি করে ফেলেছেন। তাদের মুখোশ খুলে গিয়েছে। সাথে খুলে গিয়েছে কালচারাল ফ্যাসিস্টদের মুখোশগুলোও। তাদের কুৎসিত চেহারাটা একেবারে অন্ধদের সামনেও পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। 
কবি আমির আজিজ এর কবিতার অংশ দিয়ে শেষ করি। তিনি তার ‘সব ইয়াদ রাখা যায়েগা’তে লিখেছিলেন, 

অন্ধ ভি পড় লেহ ইতনা সাফ লিখেঙ্গে
তুম কালা কমল লিখহ, হাম লাল গুলাব লিখেঙ্গে,
তুম জমিন পে জুলুম লিখ দো,
আসমান পে ইনকিলাব লিখা যায়েগা,
সব ইয়াদ রাখা যায়েগা, সব কুছ ইয়াদ রাখা যায়েগা। 

এত পরিষ্কার করে লিখবো যা অন্ধও পড়ে নেবে
তুমি কালো কমল লিখো, আমি লাল গোলাপ লিখবো
তুমি জমিনে জুলুম লিখে রাখো
ওই আকাশে ইনকিলাব লেখা হবে
সব মনে রাখা হবে, সব কিছু মনে রাখা হবে।


কাকন রেজা
সভাপতি, শেরপুর প্রেসক্লাব।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : শান্ত শিফাত

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ